জেরুজালেম- ইহুদি রাষ্ট্র, আরব বিশ্ব এবং ফিলিস্তিন!

জেরুজালেম! হাজার হাজার বছর ধরে এই ভুমি যেমন মানব জাতির প্রধান তিনটি ধর্মের পবিত্রস্থান হিসেবে সন্মানিত হয়েছে- একই ভাবে এই জনপদ দখল আর নিয়ন্ত্রনের সংঘাতে বার বার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। পারস্য, গ্রীক, রোমান, আরব, ইউরোপের ক্রুসেডার- সবাই একে দখলে নিয়ে লাভ করতে চেয়েছে গৌরব আর নিজ নিজ ইশ্বরের কৃপা! এইসব সংঘাতে বরাবরই সব’চে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই ভুখন্ডের আদি বাসিন্দা- ইব্রাহিমের সন্তান- ইহুদিরা। হাজার বছর ধরে দেশহীন থেকেও এরা নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি ত্যাগ করেনি। ত্যাগ করেনি- তাদের ইশ্বরের দেওয়া কথা! তাদের জন্য প্রতিশ্রুত ভুমিতে ফিরে আসার জন্য তারা হাজার বছর অপেক্ষা করেছে- প্রতি নিয়ত কষ্ট আর প্রবঞ্চনার শিকার হয়ে ও তারা নিজেদের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র রক্ষা করেছেহিটলারের হলোকাস্ট আর কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্প এ প্রায় ষাট লাখ সগোত্রীয়কে হারিয়ে, বিশ্বের মানুষের সহানুভুতি আর সহায়তায় নিজেদের আবাস ভুমি ইসরায়েল আদায় করে নিয়েছে ইব্রাহিমের এই সন্তানেরা! কিন্তু, এর মাঝ দিয়ে তারা জন্ম দিয়েছে আরেকটি মানবিক বিপর্যয়! ইবরাহিমের আরেক দল সন্তান- আরব মুসলিম ফিলিস্তিনিরা, এই ভুখন্ড থেকে উৎখাত হয়ে আজো নিজেদের জন্য একটি সত্যিকারের স্বাধীন রাষ্ট্র পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে চলেছে।

 

খ্রীষ্ট্রপূর্ব সময় থেকেই জেরুজালেমের ইহুদিরা বার বার গৃহ হারা হয়েছে। পারসিক এসিরিয়ান, রোমান, গ্রীক এবং শেষে মুসলিম আরব ইনভেশন। রাজনৈতিক আগ্রাসন এবং ইহুদিদের ধর্মিয় ধারনার অভিশাপ- সব কিছু মিলে এরা হাজার বছর ধরে দেশহীন হয়ে পৃথবীর নানা দেশে ঘুরে বেড়িয়াছে।শুরু হয়েছিল খৃষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে পারস্যের নেবুশাদনেজার দখল করে নেন জেরুজালেম। হাজার হাজার ইহুদিকে বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করে বেবিলন নিয়ে যান! এদের একদল তখন আবার পালিয়ে চলে যায় মিশরে- নীল নদের অববাহিকায় নিজেদের বসতি গড়ে তুলে তারা। এসময় থেকেই ইহুদি প্রধানত এই তিন অংশে- মানে জেরুজালেম, বেবিলন এবং মিশরে বসবাস করতে থাকে।

 

১৩২ খৃষ্টাব্দে সমগ্র লেভান্ট অঞ্চল বাইজান্টাইন রোমানদের শাসনে থাকাকালীন সময়ে জেরুজালেমের ইহুদিরা রোমনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সে যুদ্ধে পরাজিত হলে- পেগান রোমানরা একেশ্বরবাদি ইহুদিদের জেরুজালেম পুরোপুরি ধবংস করে। সলোমনের টেম্পল ধ্বংস করে এবং জেরুজালেমকে একটি পেগান নগরীতে পরিনত করে। সকল ইহুদিকে রোমানরা জেরুজালেম থেকে বহিষ্কার করে – এবং এর সাথেই শুরু হয় ইহুদিদের হাজার বছরের রাষ্ট্রহীন উদ্বাস্তু হয়ে বেঁচে থাকার ইতিহাস! ইহুদিরা ছড়িয়ে পড়ে রোমান সম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে!
১৯ শতকের গোড়া থেকেই প্রমিজড ল্যান্ডে নিজেদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য, বিশ্বের নানা প্রান্তে ডায়াসপোরায় দেশবঞ্চিত ইহুদীরা মাউন্ট যায়ন আর জেরুজালেমের আসেপাশে বসত ভিটা আর খামার প্রতিষ্ঠা করতে থাকে। সপ্তদশ শতকে ও ইউরোপে পগ্রোম (ইহুদি বিরোধী রায়ট) থেকে বাঁচতে বেশ কিছু সংখ্যক ইহুদি ফিলিস্তিন ভুখন্ডে ফিরে আসলেও, মুলত ১৯০৪ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে, জারিস্ট রাশিয়াতে অত্যাচারের শিকার হয়ে, অনেক ইহুদি আমেরিকা এবং জেরুজালেমে পারি জামায়।এই সময় প্রায় ৪০০০০ হাজার ইহুদি এই ভুখন্ডে আসে।১৯ শতকে বেলজিয়ামের ইহুদি সাংবাদিক থিওডর হার্জেল জায়ানিজম এবং স্বাধীন ইহুদী রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

 

প্রুশিয়ান যুদ্ধে ফরাসি সেনা বাহিনির অফিসার ক্যাপ্টেন দ্রেইফুস কে জার্মানদের পক্ষে গুপ্তচর বৃত্তির জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আলসেসের অধিবাসি দ্রেইফুসকে অন্যায় ভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তৎকালীল ইউরোপ জুড়ে যে এন্টি সেমেটিক ধারনা বিরাজমান ছিল- দ্রেইফুস এফেয়ার ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ।

প্যারিসের রাস্তায় জনসম্মুখে দ্রেইফুসের কোর্ট মার্শালের সাজার বিবরন পড়ে শোনানো হয় এবং অত্যান্ত অপমান জনক ভাবে তার মিলিটারি র‍্যাংক খুলে নিয়ে তাকে চাকুরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। পরবর্তিতে যদিও দ্রেইফুসের ইনোসেন্স প্রমানিত হয়েছিল- ইহুদিদের হৃদয়ে এই ঘটনা একটা কালেক্টিভ বঞ্চনার চিহ্ন এঁকে দেয়।
থিওডর হার্জেল প্যারিসের রাস্তায় দাঁড়িয়ে দ্রেইফুসের অপমান জনক অধ্যায় অবলোকন করে এবং ইহুদিবাদের ভিত্তিতে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় গ্রহন করে।

 

প্রথম মহাযুদ্ধের পর, অটোমান সম্রাজ্যের পতন ঘটলে, জেরুজালেম সহ বেশির ভাগ ফিলিস্তিন ভুখন্ড বৃটি ম্যান্ডেটের আওতায় আসে।ফিলিস্তিনের ধর্মিয় নেতা মুফতি হাজ্জ আল আমিন প্রথম মহাযুদ্ধে জার্মান দের সাথে যোগ দেওয়া তুর্কি সেনা বাহিনি কাজ করে। যুদ্ধের পর কিছুদিন ফ্রেঞ্চ ম্যান্ডেটের আওতায়, দামেস্ক এ অবস্থান করে।পরবর্তিতে জেরুজালেমের গ্রান্ড মুফতি হয়ে ফিলিস্তিনে ফিরে আসে।
বৃটিশ ম্যান্ডেটের অধিনে জায়নিস্ট ইহুদিদের ফিলিস্তিনে অভিবাসন এবং ইহুদি রাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কথা বললেও মুফতি কোন প্যালেস্টাই আরব দের নিয়ে তেমন কোন কার্যকরি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন নি।তার ধর্মিয় দৃষ্টিকোন ভিত্তিক চিন্তা হয়তো আরব জাতীয়তাবাদের বদলে মুসলিম নেতৃত্বের দিকেই বেশি আগ্রহি ছিল। তার নেতৃত্বে ১৯৩৫/৩৬ এজেরিজালেমে আরব আপরাইজিং হলেও সেটি খুব একটা বেগবান করতে তিনি ব্যর্থ হন।

 

তাছাড়া ২য় মহাযুদ্ধের সময় তিনি হিটলারের সাথে হাত মেলান- যা পরবর্তিতে আরবদের ন্যায্য দাবি কে বিশ্বের পরাশক্তি গুলির কাছে অনেক দূর্বল করে দেয়।
এই দিকে, প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মধ্যবর্তি সময়ে ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যক ইহুদি জেরুজালেমে আসতে থাকে। ফিলিস্তিনি জনগনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে বৃটিশ সরকার ইহুদি অভিবাসন নিষিদ্ধ ঘোষনা করলেও, গোপনে তা চলতেই থাকে। ইহুদিরা জেরুজালেমের একাংশে নিজেদের কোয়ার্টার গড়ে তুলে, যেটাকে জিউইশ কোয়ার্টার বলা হতো। অন্য অংশে থাকতো আরব রা।এছাড়া ও জেরুজালেমের আসেপাশে, ইহুদিরা বড় বড় যৌথ খামার গড়ে তুলে যেগুলাকে ওরা বলতো কিবুতজ।এই খামার গুলিতে তারা নিজদের লোকজনদের সামরিক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে। প্রশিক্ষিত এই ইহুদিরা ধীরে ধীরে নিজেদের মিলিশিয়া বাহিনি গড়ে তুলে যাকে হাগানাহ বলা হতো।

 

১৯৪৭/৪৮ সাল থেকেই হাগানাহ আরব কিংবা বৃটিশ বাহিনির সাথে বিভিন্ন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ১৯৪৮ সালে আরব এবং ইহুদিদের মধ্যে সংগঠিত দাংগার সময় যদিও জেরুজালেমের জিউইশ কোয়ার্টারের ইহুদিরা বেঘোরে প্রাণ হারায়, পরবর্তিতে, হাগানাহ এর সদস্যরা বেশ কিছু আরব গ্রামে হামলা করে প্রচুর ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে।
১৯১৭ সালে বেল্ফোর ডিক্লারেশনের মাধ্যমেই, ফিলিস্তিনের অধিবাসিদের অজান্তে ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের আন্তর্জাতিক ফাউন্ডেশন লে করা হয়ঃ ” His Majesty’s government view with favour the establishment in Palestine of a national home for the Jewish people, and will use their best endeavours to facilitate the achievement of this object, it being clearly understood that nothing shall be done which may prejudice the civil and religious rights of existing non-Jewish communities in Palestine, or the rights and political status enjoyed by Jews in any other country.” এটি মুলত একটি চিঠি যা তৎকালীন বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী স্যার আর্থার বেলফোর লিখেছিলেন লিখেছিলেন ব্রিটেনের ইহুদি কমিউনিটির নেতা ওয়াল্টার রথচাইল্ড কে।

 

এর পর থেকেই সারা বিশ্ব, বিশেষ করে ইউরোপ থেকে ইহুদিরা তাদের স্বপ্নের প্রমিজড ল্যান্ড, জেরুজালেমের উদ্দেশ্যে পাড়ি জামাতে থাকে। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় নাৎসী জার্মানির ইহুদি নিপীড়ন এবং হলোকাস্ট এর কারনে সমগ্র পশ্চিমা জগতে একধরনের ইহুদি সিম্প্যাথির জন্ম নেয়। বেল্ফোর ডিক্লারেশনের সূত্র ধরে বৃটিশরা তো ইহুদিদের প্রতি একধরনের মানসিক দায়বদ্ধতার মধ্যে ছিলোই, এখন আমেরিকা ও ইহুদি কজ কে সর্বশক্তি দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া শুরু করলো।
১৯৪৭ সালে ইউএন জেনারেল এসেম্বলিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে দুভাগ করার রেজ্যুলেশন পাশ হয়।১৯৪৮ সালের ১৪ ঈ মে, জায়নিস্ট নেতা ডেভিড বেন গুরিওন ইসিরায়েলের ইহুদিদের অবসংবাদিত নেতা ও প্রধান নির্বাহি হিসেবে নিজেকে ঘোষনা করে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইহুদি রাষ্ট্রের কার্যক্রম শুরু করে।
এই ঘোষনার পরদিনই অর্থাৎ ১৫ ঈ মে ইজিপ্ট, জর্ডান, সিরিয়া, ইরাক এবং লেবানন এক জোটে ইসরায়েল কে আক্রমন করে।১১ জুন পর্যন্ত যুদ্ধ চলে এবং এই যুদ্ধের ফলাফল স্বরূপ, ইসরায়েল ইউ এব রেজ্যুলেশন অনুসা রে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত জায়গা তো দখলে রাখতে সামর্থ হয়ই, উপরন্তু, ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্ধারিত জায়গার প্রায় ৬০ শতাংশ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।
এতগুলো আরব দেশ মিলে আক্রমন করার পরও ইসরায়েলের হাগানাহ, ইরগুন সহ কিছু মিলিশিয়া বাহিনির কাছে আরব রা এক রকম শোচনীয় ভাবেই পরাজিত হয়। পরবর্তিতে ইউ এন এর মধ্যস্থতায় আরব ও ইসরায়েলিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে ৭০০০০০ ফিলিস্তানি দেশ ত্যাগ করে পৃথবীর ইতিহাসে নতুন এক মানবিক বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়।
এর পর অনেক বছর হয়ে গেলো। ফিলিস্তিনের জনগন ঘরবাড়ি ও দেশ হারিয়ে জর্ডান, ইজিপ্ট সিরিয়া সহ বিভিন্ন আরব দেশের রিফিউজি ক্যাম্প গুলিতে মানবেতর জীবন যাপন করতে লাগলো। পি এল ও হলো, ইনিফাদা হলো, আরাফাত, জর্জ হাবাশ আরব জাতীয়তাবাদের কেতনায় স্বাধীনতা সংগ্রাম করলো। কিন্তু ইসরায়েলের কাছ থেকে নিজেদের আবাস ভুমি মুক্ত করতে পারলো না। লায়লা খালিদ রা বিশ্বে সংগ্রাম আর বিপ্লবের সিম্বল হয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিলো। জামাল আব্দেল নাসের ১৯৫৬ সালে ইসরায়েল কে কুপোকাত করতে চাইলো- কিন্তু ইসরায়েল ততদিনে অনেক বেশি শক্তি শালি। বিশ্বের মহা পরাক্রম শালী পরা শক্তিরাও ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিল।
কিবুতজ এ প্রশিক্ষন নেওয়া যে হাগানাহ থেকে ইসরায়েলি সেনা বাহিনির জন্ম, যারা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ২য় মহাযুদ্ধ পরবর্তি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে পুরাতন লহালক্করের সাথে অস্ত্রের ক্ষুদ্রাংশ এনে অত্যান্ত ধুর্ততার নিজেদের সশস্ত্র করেছিল তারাই জুগের পরিক্রমায় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনিতে পরিনত হলো। ১৯৫৮ সালে সুয়েজ ক্যনাল দখল করে পরবর্তিতে তা ছেড়ে পেছনে এসে বার্লেভ লাইন নামক শক্তিশালি প্রতিরক্ষা বুহ্য তৈরী করে। ১৯৬৭ সালে, ১৯৭৩ সালে উপর্যপোরি যুদ্ধ করেও মিশর, সিরিয়া শচনীয় ভাবে ইসরায়েলের কাছে পরাজিত হয়। প্রতিটি যুদ্ধের পরই দেখা যায় ইসরায়েল আরো বেশী ভুখিন্ড তার দখলে নিয়ে নিচ্ছে।
এর পর বিল ক্লিন্টনের মধ্যস্থতায় মিডেলইস্ট পিস প্রসেস কিছুটা গতি পায়। রোড ম্যাপ ধরে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন ভুখন্ড পাওয়ার জন্য আলোচনা চলতে থাকে। সে অনুসারে গাজা আর ওয়েস্ট ব্যাংক এ ফিনিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত ও হয়। তবে, ২০০১ পরবর্তি বিশ্বে, নতুন সংকট তৈরি হয়। স্বাধীততা সংগ্রাম আর সন্ত্রাসী কার্যক্রম কে পশ্চিমা বিশ্ব এক করে নতুন থিওরীর জন্ম দেয়। যেসকল স্বাধীনতা সংগ্রামি ইন্তি ফাদা’র সময় বিপ্লবের প্রতীক ছিল- বিশ্ব জুড়ে ইসলামিক জংগি বাদের উথ্বানের ফলে- এরা আবেদন হারাতে থাকে। হামাসের মত সংগঠন, হিজবোল্লাহ, কিংবা আলকায়েদা মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। অসলো পিস প্রসেস ভেস্তে যায় এর মধ্যেই। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি জনতা বুঝে যায়, এতে কাজ হচ্ছে না- শুরু হয় দ্বিতীয় ইন্তিফাদা!

 

এখন ইসরায়েল চুক্তি না মেনে অবৈধ সেটেলমেন্ট এসটাব্লিশ করতে গেলে- বাধা বা প্রতিবাদ করলেও খুব সহজেই তাকে জংগীবাদ বলে চাপিয়ে রাখা যায়। ইসরায়েল হলোকাস্ট বিক্রি করে, বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের জংগীবাদ বিক্রি করে আর প্রতি মহুর্তে তার নিজের অতীত ভুলে নীপিড়নের হাতিয়ারে পিষে মারে অভুক্ত আর দূর্বল ফিলিস্তিনি দের। আরব দেশ গুলো তথা সমগ্র আরব বিশ্ব নিজেদের শিক্ষাদীক্ষা আর জ্ঞান বিজ্ঞানে এতো পেছ্নে নিয়ে গেছে যে আজকের দিনে এরা শুধুমাত্র হাস্যকর টাওয়েলহেড। নিজেদের দেশে মানবাধিকার কিংবা গনন্ত্রের কোন চিহ্নই এরা রাখেনি। পশ্চিমা বিশ্ব নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজতন্ত্র আর একনায়কতন্ত্রকেই ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য যা দরকার সব কিছুই করে যাচ্ছে। এই শাসকদের বিরোধিতা করার জন্য যারা এগিয়ে এসেছে- তারাতো আরো ভয়ংকর! ধর্মান্ধ আর রক্তপিপাসু জংগী হায়েনার দল এরা। সমগ্র আরব বিশ্ব আজ রক্তের হলি খেলাতে মত্ত। এখন ইসরায়েল যা ইচ্ছা তাই করতে পারে …
হ্যারি ট্রুম্যানের একটা উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছিনা- ঠিক কোথায় পড়েছিলাম, এখন মনে পড়ছে না। ২য় মহাযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠন, আরব ইসরায়েল সংঘাত- এই সব কিছুর মাঝে আমেরিকা অন্ধ ভাবেই ইহুদি তথা ইসরায়েল কে সহায়তা করে চলছিল। কথিত আছে, এ ব্যাপারে তার এক এইড তাকে তার পক্ষপাতিত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন – ” I don’t have so many Arabs surrounding me here in washington!” ………….
ডুয়েলে সমাধান হবে না। হবেনা অল আউট যুদ্ধেও। কেউ মানুক আর না মানুক- টু স্টেট থিওরি ছাড়া সমাধান সম্ভব না। ইসরায়েল কে বুঝতে হবে- তার খেয়াল খুশি মতন নাম মাত্র স্বাধীনতায় কোন দেশ বা জাতি সন্তুষ্ট হবে না- হতে পারেনা। একটি স্বাধীন সার্বভৌম এবং পুর্নাঙ্গ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রই ইসরায়েলের একমাত্র এবং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষাকবজ! একটি আত্মমর্যাদাশীল, শিক্ষিত এবং স্বনির্ভর জাতি হিসেবে ফিলিস্তিন গড়ে উঠলে- ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকি এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে।
অনেকেই হয়তো ভাবছেন- একি পাগলের প্রলাপ বকছে। আমার আসলে কিছু যুক্তি আছে। দেখুন, ফিলিস্তিনিরা অন্যান্য আরবদের চেয়ে অনেক অগ্রসর এবং প্রগতিশীল। এই জন্যই প্রায় পাঁচ যুগ ধরে ফাতাহ ও ইয়াসির আরফাতের মত নেতা অবসংবাদিত ভাবেই তাদের মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে পেরেছে। তবে আসেপাশের আরবদেশ মিশর জর্ডান কিংবা সিরিয়ার মানুষেরা ফিলিস্তিনিদের বিশেষ পছন্দ করেনা- কারন তারা নানাবিধ চিটিং বাটপারি আর অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। দেশহীন কোন জাতি যখন বিদেশের মাটিতে রিফিউজি ক্যাম্পে উদ্বাস্তু হিসেবে বেড়ে উঠে- তাদের আত্মমর্যাদাবোধ ও নৈতিকতায় ঘুন ধরে। কারিদিকে শুধু অভাব আর মানবিক পরিবেশের অনুপস্থিতি এদের চরিত্রকে কলুষিত করে ফেলে। আমাদের দেশে রহিংগাদের যেমন কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষ মোটেও ভাল চোখে দেখে না। এরা চুরি ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ইত্যাদির সাথে জড়িয়ে স্থানিয়দের চক্ষুশুলে পরিনত হয়।
পাকিস্তানে দেখেছি- আফগান রিফিউজিদের ওরা দুচোখে দেখতে পারেনা। ক্যাম্পের মেয়েরা বয়ঃসন্ধি পার না হতেই দেহ ব্যবসায় নেমে পড়ে। শুনেছি- একশ রূপি দিলেই নাকি আফগান পুরুষদের দিয়ে মানুষ খুন করানো যায়! এর কারন কিন্তু তাদের এথনিসিটি নয়। কারন তাদের অভাব, বেকারত্ব আর হতাশা।

 

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে যদি একটি পূর্ণ সার্বভৌম স্বাধীন রাস্ট্র হিসেবে গড়ে য়োলা যায় তাহলে এই জাতি যেকোন আরব দেশের চেয়ে অনেক বেশি এগয়ে যাবে। ভুমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত এই দেশ হতে পারে পৃথিবির অন্যতম ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন। তাছাড়া ধর্মিয় তীর্থস্থান হিসেবেও এরা প্রচুর ট্যুরিস্ট পাবে। শক্তিশালি অর্থনীতি, ভাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর শিক্ষিত সমাজ গড়ে উঠলে- কেউ আর ইসরায়েলকে রকেট বা বোমা মেরে নিজের সুন্দর জীবন বিপন্ন করতে চাইবেনা।
আসলে ইসরায়েলের বেশিরভাগ মানুষ শান্তি চায়। যেমনটা চায় ফিলিস্তিনিরা। গাজায় এতো প্রাণহানির পরও তাই ফাতাহ শাসিত পশ্চিম তীরের মানুষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরছে না। কারন তারা শান্তিতে বাঁচতে চায়।

এখানে টুইস্টটা অন্য জায়গায়। আমার কেন জানি মনে হয়- এই সমস্যা সমাধান না হওয়ার পেছনে আমেরিকার বিশাল অবদান আছে। মার্কিন সরকার চায়না আরব ইসরায়েল সংঘাত কোন সমাধানের দিকে যাক। মধ্যপ্রাচ্যে যতদিন তেল আছে- আমেরিকা চাইবে- সেখানে তার কর্তৃত্ব টিকে থাকুক। আরব দেশ গুলিতে তার নিজের পছন্দের সরকার থাকবে। আর ইসরায়েল হলো তার লাইফ ইন্সুরেন্স। কেউ যদি কথা না শুনে তবে একটা আরব ইসরায়েল যুদ্ধ বাদিয়ে নিজের গুরুত্ব আর শক্তি পুণঃস্থাপন করবে। আমেরিকার এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজের মধ্যেই নিহিত আছে- আমেরিকার নাগরিকদের কিং সাইজ লাইফ আর এমেরিকান ড্রিমের চাবিকাঠি। তেল আসবে, অস্ত্র বিক্রি হবে, গাড়ি ঘোড়া বিক্রি হবে- আমেরিকার চাকা দুরন্ত দূর্বার গতিতে চলতে থাকবে …………….

 

[collected]

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s