ANTI – RELIGION MANTRA

আমার এক স্যার ১৯৮৮ সালে বলেছিলেন- মালাউন শব্দটি প্রথম পাব্লিক স্ফেয়ারে ব্যাবহার করেন, পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সামরিক জান্তা আইয়্যুব খান। পূর্বপাকিস্তান সফরে এসে, চট্টগ্রামের কোন এক জায়গায়, পাব্লিক মিটিং এ তিনি ভারতকে শাসাতে “মালাউন” শব্দটি ব্যাবহার করেন। এই তথ্যের কোন দালিলিক প্রমান অবশ্য আমি পাইনি কোথাও।

ভারতীয় সেনাবাহিনির 1st Gurkha Rifle এর নিক নেইম মালাউন ব্যাটালিয়ন। ১৮১৫ সালে এংলো-গুর্খা যুদ্ধের সময় হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুরের কাছে মালাউন নামক স্থানে রক্তাক্ত সংঘাত হয়েছিল। যুদ্ধে বৃটিশরা জয়ী হলেও, গুর্খাদের সাহসিকতার স্বীকৃতি স্বরূপ তৎকালীন ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির বেংগল আর্মিতে গুর্খাদের অন্ত্ররভুক্ত করে। সেটাই ছিল ফার্স্ট গুর্খা রেজিমেন্ট। মালাউনের যুদ্ধকে স্মরণে রাখতে, এই রেজিমেন্টের নম দ্যু প্লুম রাখা হয় মালাউন ব্যাটালিয়ন। প্রথম গুর্খা রাইফেল “1st King Goerge V’s own Gurkha Rifle” নামেও পরিচিত ছিল।

তবে মুসলিমরা উপমহাদেশের হিন্দুদের মালাউন বলে সম্বোধন করার কারন হল- আরবী মালাউন শব্দ। এর বাংলা হল অভিশপ্ত। হিন্দুদের অভিশপ্ত সম্প্রদায় বলে ডাকার এই প্রবণতা মুলত সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। একটা সময়ে ভারতের মানুষ, অর্থাৎ হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বহিরাগতদের যবন ডাকত। সংস্কৃত যবন শব্দটির বাংলা অনেকটা “দ্রুত ঘোড়সাওয়ার” টাইপের কিছু একটা। আলেকজান্ডারের গ্রীক বাহিনিকে প্রথমে যবন ডাকা শুরু হয়। গ্রীক ক্যাভালরির গতি ও পারদর্শিতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভারতীয়রা গ্রীকদের কাছে পরাজিত হতে থাকলে, যবন একটা ঘৃণ্য বচনে পরিনিত হয়।

এর পর আরব, তুর্কি, আফগান ও মুঘল মুসলিম শাসকরা ক্রমান্বয়ে হিন্দুকুশ অতিক্রম করে ভারতে হানা দিতে থাকলে, মুসলিমদের ভারতীয় হিন্দুরা যবন বলে সম্বোধন করা শুরু করে। ঊনবিংশ শতকের বাংগালি হিন্দুত্ববাদি লেখক বঙ্কিম চন্দ্র ও মুসলিমদের যবন বলেছেন। বিদেশিদের মানে অভারতিয় বা অহিন্দুদের ম্লেচ্ছ বলার চলও ছিল। আজকাল শুনেছি পশ্চিম বাংলার প্রতিক্রিয়াশীল লোকজন মুসলিম দের ন্যাড়া/ কাটা বা এমনই কিছু বলে ডাকে।

কোন সম্প্রদায়/ জাতি বা গোষ্ঠিকে তার নিজস্ব স্বীকৃত নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকা কিংবা অপমানজনক নামে ডাকার প্রবণতা নিরেট অসভ্যতা এবং অমার্জনীয়। পরিবার থেকেই মুলত শিশুরা এধরনের শব্দচয়ন শিখে থাকে। পিতা মাতা কিংবা পরিবার ও সমাজের সকলের সচেতনতা প্রয়োজন এই ধরনের প্রবণতা রোধ করার জন্য। শিক্ষিত বয়োপ্রাপ্ত লোকজন যখন এসব ব্যাবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থার প্রবিধান প্রয়োজন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s